ছদ্মবেশি ছেলেটা যখন মাফিয়া কিং
পর্ব ১
লেখা: Meherab Kabbo
ভোর হতে না হতে খালের ভেতরে পড়ে আছে পাঁচ পাঁচ টা লাশ। কারা বা কে এখনো বোঝা যাচ্ছে না৷ অজ্ঞান অবস্থায় চোখ বাঁধা ৬ জন পড়ে আছে খালের পাড়ে। প্রশাসনের লোক কাজ করছে। সাথে আছি আমি সোহেল নিউজ ফিফটি।
প্রশাসনের ইনচার্জ রেজাউল এসে মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
- আমাদের কার্জকম শেষ। লাশ ৫ জনই ডাকাত দলের। আর যে ৬ জন আছে তাদের কে অপহরণ করা হয়েছিলো।
রিপোর্টার সোহেল বললো
- স্যার কে উদ্ধার করলো এই ডাকাত দলের হাত থেকে। ডাকাতদের কে মারলো? প্রশাসন কি ডাকাত ধরতে ব্যর্থ।
- কে এর সাথে জড়িত আমাদের জানা নেই। আর প্রশাসনের দায়িত্ব প্রশাসন পালন করে যাচ্ছে।
- স্যার আর কতো দিন চলবে এসব। অপহরণ গুম খুন।
- আমরা আমাদের সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছি। খুব শ্রীগ্রই এসব থেকে মুক্তি পাবে সবাই।
৬ জনের ভেতর এক বৃদ্ধার হুশ আসলো। মিডিয়ার লোক সবাই এগিয়ে গেলো। সোহেল বৃদ্ধাকে বললো
- চাচা আপনাদের কে উদ্ধার করলো? জানেন কিছু।
বৃদ্ধা কাঁপতে কাঁপতে বললো
- আমি যে বেঁচে থাকবো কখনো ভাবতে পারিনি। এভাবে আমাদের কে বাঁচিয়ে নিলো তাকে কিছুই বলতে পারলাম না। তার জন্য দোয়া করি সে যেই হোক না কেন আল্লাহ ওকে সবসময় ভালো রাখুক আর সবার বিপদে এগিয়ে যায় জেনো।
- কে সে?
বৃদ্ধা একটা হুংকার দিয়ে
- টা টা টা টাইগার
মিডিয়ার লোক এক পা সরে গেলো টাইগারের নাম শুনে। প্রশাসনের লোকজন অবাক হয়ে বৃদ্ধার দিকে তাকিয়ে আছে। সোহেল বললো
- চাচা আপনি কি টাইগার কে দেখেছেন?
- রাতের আঁধারে অন্ধকারে কিভাবে দেখবো। শুধু হংকার শুনেছি টাইগারের।
- আসলে কি বাঘ না মানুষ।
- সে যেই হোক এই ডাকাতদের সব নিঃশেষ করে ফেলবে।
মিডিয়ার লোকজন বলতে লাগলো
- কে এই টাইগার। যাকে এখন পর্যন্ত কেউ দেখেনি। অথচ সেই একের এক ডাকাত দলদের শেষ করে দিচ্ছে। যেখানে প্রশাসন কিছুই করতে পাচ্ছে। তাহলে কি বাঘই সব ডাকাতদের শেষ করে দিবে। অপহরণ হওয়া মানুষদের বাঁচাবে।
রেজাউল একজনকে বললো
- ওনাকে নিয়ে যাও আর বাকীদের নিয়ে উন্নত মানের চিকিৎসা দাও। আর ডাকাতদের পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত করলো।
সবাইকে নিয়ে চলে গেলো। মিডিয়ার লোকজন যে যার মতো করে নিউজ সম্প্রচার করে যাচ্ছে। ডাকাত যারা মারা গেছে তার পরিবারের সদস্যরা নিউজ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। কোনো পরিবার তো কান্না করে
- ও আল্লাহ্ গো আমার এ কি সর্বনাশ করলে গো। আমার ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় যাবো। ওকে আমি বারণ করেছি এসব থেকে ফিরে আসো আসেনি। কি সর্বনাশ হয়ে গেলো রে।
আরেক পরিবার
- গ্রামে আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে কিভাবে থাকবো। সবাই জানতে পারলে আমাদের আর রক্ষে নেই। নিজে মরে গেছে আমাদের সাথে মেরে গেছে। কতবার বলেছি।
আরেক পরিবারের একজন
- এসব দলে গেলে ফিরে আসা যায় না। একবারে ফিরে গেলা আমাদের একা রেখে।
প্রশাসনের বড় মিটিং ডেকেছে উপর থেকে ইমারজেন্সি ভাবে। সিনিয়র জুনিয়র সব অফিসার মিটিং এ এসে জয়েন করছে। বড় হাই অফিসার সবার উদ্দেশ্য বললো
- তোমরা কি করছো হ্যা। করছো টা কি? এভাবে চলতে থাকলে তো আমাদের ডিপার্টমেন্টের বদনাম হয়ে যাবে। খোঁজ লাগাও কে এই টাইগার। কি তার উদ্দেশ্য। জানতে চায় টাইগারের এদের সাথে কি শত্রুতা।
হাফিজ বলে উঠলো
- স্যার টাইগার তো আমাদের বেশ সুবিধা দিচ্ছে। আমাদের কাজ টা ও করে দিচ্ছে। ওকে খুঁজে আমাদের ডিপার্টমেন্টে চাকরি দিয়ে দিলে তো আমাদের সুনাম হবে।
হাই অফিসার ধমক দিয়ে
- রাবিশ। অন্যায় যে করে আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে যেয়ে যে হত্যা করে তারা সমান অপরাধী আইনের চোখে। কারো কোনো ছাড় নেই। আমি চাই এই টাইগারকে সবাই খুঁজে বের করো। তা না হলে একটার ও চাকরি থাকবে না৷
রেজাউল বললো
- স্যার টাইগারের নামে কোনো কেস ফাইল নেই। না আছে কোনো অভিযোগ আর না আছে ওর কোনো ছবি বা পরিচয়। কিভাবে খুজে বের করবো।
- আমি কিছু জানি না যে ভাবেই হোক ওকে খুঁজে বের করো। নাকে তেল লাগিয়ে না ঘুমিয়ে থেকে ডিউটি ঠিক মতো করো।
অফিসার সবাইকে ধমকিয়ে বোর্ডে একটা ছক আকিয়ে সবাইকে মাস্টার মাইন্ডের প্ল্যান করতে থাকলো।
সকাল ১০
হাবা গোবা একটা ছেলে পুরানো ব্যাগ নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকলো। কলেজ ক্যাম্পাসের গেইটের পাশে রাফি রিফা সিনথিয়া তানজিনা হ্যাপি সবাইকে র্যাগ করতেছিলো। হ্যাপি যেয়ে ছেলেটার সামনে যেয়ে দাঁড়ালো। ছেলেটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে পড়লো। হ্যাপি সিগারেটে টান মেরে ছেলেটার মুখে ধোঁয়া ছেড়ে দিলো। ছেলেটা কাশতে থাকলো। সবাই এটা দেখে হাসতে শুরু করে দিলো। হ্যাপি বললো
- কি গো চকলেট বয় কলেজে যে সিনিয়র দেখে সালাম দিতে হয় সেটা কি ভূলে গেছো।
ছেলেটা তোতলাতে তোতলাতে বললো
- আ আ আমি ল ল নতুন।
তানজিনা ছেলেটার কাঁধে থাবা মেরে
- তুই কি ত ত ত তোতলা নাকি।
সবাই হেসে দিলো। রাফি এসে বা কাঁধে থাবা মেরে
- ত ত তোল ল ল লাম কি?
ছেলেটা ওদের দিকে তাকিয়ে পড়লো। হ্যাপি বললো
- বল কি নাম তোর?
ছেলেটা তোতলাতে তোতলাতে বললো
- আ আ আমার ল ল ল নাম ম ম ম মেহেরাব।
রিফা মেহেরাবের গাল টেনে নিয়ে
- তুই এতো কিউট কেন রে? আমি তো তোর উপর ফি ফিদা হয়ে গেছি।
হ্যাপি রিফাকে ডাক্কা দিয়ে মেহেরাবের হাত ধরে টেনে নিয়ে
- এ এ এ হচ্ছে আ আ আ আমার হাসবেন্ড৷ আমার চকলেট টা।
সিনথিয়া মেহেরাবের হাত ধরে টেনে নিয়ে
- এ শুধুই আমার। কি গো আমার হবে?
মেহেরাব তোতলিয়ে
- আ আ আপনারা এ এ সব কি বলছেন?
হ্যাপি মেহেরাবের গাল ধরে
- বাবু তুমি বুঝতে পারছো না৷ কি বলছি? ফিদার খাও।
রাফি বললো
- এই ফিদার টা নিয়ে আয়। হ্যাপির বাবুটাকে একটু ফিদার খাওয়ায়।
মেহেরাব তোতলিয়ে বললো
- আ আ আ আমাকে যে যে যেতে দিন। আ আমার কেলাস আ আছে।
সবাই হেসে দিলো। রিফা বললো
- এই দেখ কত সুইট ছেলেটা ক্লাস করবে প্রথম দিনেই এসে। এতো ভালো স্টুডেন্ট তো আমাদের কলেজে লাগবে না।
সিনথিয়া বললো
- অনেক দিন পর একটা তোতলা মুরগি পেয়েছি। একে র্যাগ না করতে পারলে সারা জীবনের জন্য আফসোস থেকে যাবে৷
হ্যাপি বললো
- আচ্ছা বাবু তোমাকে যেতে দিবো একটা কাজ করে দিতে হবে।
- হ হ হ্যা ব বলেন।
- এই কাগজ টা ঐ যে মেয়েটাকে দেখতে পাচ্ছো তাকে দিয়ে তুমি চলে যাবে।
- ঠিল ঠিক আছে।
মেহেরাব হাতে কাগজ নিয়ে যেতে যাবে তখনি রাফি মেহেরাবকে ধরে
- এতো ব্যস্ত কেন ফিদার টা খেয়ে যাও। হ্যাপি তোর বাবুকে ফিদার খাওয়াবি না।
- হ্যা হ্যা খাওয়াবো তো।
মেহেরাব তোতলিয়ে বললো
- ল ল না আ আমি খাবো না।
- তুই যদি না খাস তোকে এর থেকে বড় শাস্তি দিবো।
- ল ল লা না।
সিনথিয়া রিফা মেহেরাবের হাত ধরলো৷ রাফি হাত দিয়ে মেহেরাবের মুখ চেপে ধরলো। হ্যাপি ফিদার টা মেহেরাবের মুখে পুড়ে দিলো। মেহেরাব ছটফট করতে লাগলো। তোতলিয়ে কথা বলে বলে ঠিক মতো কথা বলতে পারে না। সবাই মিলে ওর কথা বলা নিয়ে মজা করে।
সবাই চেয়ে চেয়ে এই দৃশ্য দেখে মজা লুটতেছিলো। তানজিনা হ্যাপির কানে কানে
- এখন ছাড় আর কাগজ টা নিয়ে আরোহীর কাছে পাঠা। তা না হলে প্রতিশোধ নিতে পারবো না।
- ঠিকি বলছিস।
মেহেরাবকে ছেড়ে দিলো। হ্যাপি বললো
- যা এই কাগজ টা দিতে পারলে তোকে আর কেউ কিছু বলবে না।
মেহেরাব তোতলিয়ে
- আপনারা অনেক খা লা খারাপ।
সিনথিয়া বললো
- খারাপ কি না এবার কিন্তু কাজে করে দেখাবো। যাবি তুই।
মেহেরাব ভয় পেয়ে যায়। কাগজ টা হাতে নিয়ে মেহেরাব আরোহির সামনে যেয়ে দাঁড়িয়ে কাগজটা আরোহীর দিকে দিয়ে তোতলিয়ে
- এ এ এটা অ অ আপনার জন্য
আরোহী কাগজটা হাতে নিতেই মেহেরাব চলে যেতে যাবে তখনি আরোহী মেহেরাবের হাত ধরে
- কই যাস চান্দু। আমাকে লাভ লেটার দিয়ে পালাচ্ছিস কই।
মেহেরাব তোতলিয়ে কিছু বলতে যাবে। তখনি থামিয়ে দিলো। রাফি সিনথিয়া রিফা তানজিনা মেহেরাবের দিকে তাকিয়ে হাসছে। সবাই চেয়ে আছে মেহেরাবের দিকে। আরোহী কাগজটা খুলে দেখার সাথে সাথে পুরো থ হয়ে যায়
Waiting for next par........
Leave a Comment