তোমায় নিয়ে আমার গল্প 

পর্ব ৪ 

লেখা: Meherab Kabbo 


টিনা নেহা আর তামান্না রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলো।  কাব্য রিকশা করে ঐ রাস্তা দিয়ে আসতেছিলো।  কাব্য টিনাকে দেখে চিনে ফেলে।  আর রিকশাওয়ালাকে রিকশা থামাতে বলে।  রিকশা থামতে টাকা দিয়ে রিকশা থেকে লাফ মেরে কাব্য দৌড়ে পলালো।  তামান্না এমন দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেলো৷  টিনা বললো 

- গতকালের সেই ছেলেটা না। 

- হ্যা।  

- আমাদের দেখে দৌড় দিলো কেন?  

- জানি না তো।  

নেহা বললো 

- তোরা গতকাল যে পিটানি খাওয়াইছিস আজ যদি আবার খাওয়াস তাই পলাইছে।  

নেহা তামান্না টিনা হেসে দিলো।  তামান্না বললো 

- ও তো বুঝতে পারলো না ওকে আমি সরি বলবো।  কিন্তু আমাদের দেখে পালিয়ে গেলো।  

- ভয় পায় তোকে আপু।  তাই পলাইছে।  

- আজ হোক কাল হোক ওকে আমি ঠিকি সামনে পাবো।  সেদিন ওকে এমন শিক্ষা দিবো যাতে পলাতে না পারে।  

- কি করবি তুই আবার?  

- দেখতে থাক কি করি।। 


তামান্না নেহা টিনা চলে গেলো  ।  



কাব্য এসির ভেতর বসে ঘামছে।  আদ্র কাব্যকে ঘামতে দেখে 

- কি হয়েছে তোর?  এতো কি ভয় পাচ্ছিস।  

কাব্য থ ম খেয়ে 

- ক ক কই কিছু নাতো 

- গাড়ি এনেছিস।  

- না। 

- তাই তো বলি এতো ঘামছিস কেন?  তোকে গাড়ি দেয় নি 

- দিয়েছে। আমার গাড়িতে ভালো লাগে না৷ রিকশায় চলতে ভালো লাগে।  মুক্ত আকাশে শহরটা উপভোগ করেতে ভালো লাগে।  

- তুই মেয়ে দুজনকে চিনিস। 

- না ভাইয়া।  

হঠাৎ করে  রুমের ভেতর একটা মেয়ে আর মহিলা পুরুষ প্রবেশ করলো।  আদ্র উঠে দাড়িয়ে তাদেরকে সালাম দিয়ে বসতে বললো।  সবাই বসার পর আদ্র কাব্যকে দেখিয়ে দিয়ে 

- আমার এক মাত্র শালা। কাব্য।  

কাব্য সালাম দিলো।  সালামের উত্তর দিলো।  মেয়েটা কাব্যের দিকে তাকিয়ে আছে।  কিন্তু মেয়েটাকে দেখছে না।  মাথা নিচু করে আছে। 

ভদ্র লোজটা বললো 

- খুব সুন্দর দেখতে আপনার শালা।  আমার তো পছন্দ হয়ে গেছে।  


কাব্যের বুঝতে বাকী নেই মেয়ে দেখানোর জন্য আসতে  বলছিলো।  কাব্য উঠে দাঁড়িয়ে 

- ভাইয়া একটু ওয়াশরুমে যাবো।  আপনারা কথা বলতে লাগেন 

- একটু তাড়াতাড়ি এসো।  


কাব্য চলে যায়।  আদ্র কথা বলতে লাগলো।


  কাব্য ওয়াশরুমে না যেয়ে সোজা বের হয়ে গেলো।  আদ্র আর  মেয়ে অপেক্ষা করছে।  



তামান্না মার্কেটে আসছে কিছু কেন কাটার জন্য।  নিজের পছন্দ মতো কিছু কিনে নিয়ে বের হলো।  



এদিকে ৪০ মিনিট হয়ে গেলো কাব্যের কোনো খোজ নেই।  হঠাৎ করে আদ্র র ফোনটা  বেজে উঠলো।  ঐশি কল করেছে।  আদ্র ফোনটা রিসিভ করতেই ঐশি বললো 

- তোমার মাথায় কি কোনো সমস্যা।  

- কেন?  

- কাব্যকে দেখানোর জন্য নিয়ে গেছো ওকে কেন বুঝতে দিছো।  বাসায় এসে লাগিয়েছে।  তুমি তাদের সামলিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দাও।  কাব্য বাসায় চলে এসেছে।  


আদ্র অবাক হয়ে গেলো।  ঔশি বললো 

- এতো কিছু ভাবতে হবে না

তোমায় নিয়ে আমার গল্প পর্ব ৪    

ঐশি ফোনটা কেটে দিলো।  


কাব্য রুমের ভেতর দরজা বন্ধ করে দিয়ে তামান্নার ছবির দিকে চেয়ে আছে।  নিজের অজান্তে চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।  



আরশি বেগম এসে কাব্যের দরজায় টোকা দিয়ে 

- দরজাটা খোল কাব্য।  তোর সাথে কিছু কথা আছে।  

- মা একা থাকতে দাও প্লিজ।  

- খোল বাবা।  জরুরি কথা।  তোকে বিয়ের বিষয়ে আর কিছু বলবো না।  


কাব্য এসে দরজাটা খুলে দিলো।  আরশি বেগম রুমে ঢুকে  বিছানায় বসে 

- দেখ তোর যা ইচ্ছা তুই তাই কর।  কিন্তু তোর এই চেহারাটা আমাদের সহ্য হচ্ছে না।  নিজেকে ঠিক রাখ আমাদের ও ভালো থাকতে দে।  

কাব্য অসহায়ের মতো আরশি বেগমের দিকে তাকিয়ে 

- চাইলে কি সবকিছু ভোলা যায় মা?  আমি তো পারছি না।  ওকে তো আমি কথা দিয়েছি ওকে ছাড়া আমি কাউকেই বিয়ে করবো না।  

- ও তো মরে গেছে।  নেই পৃথিবীতে।  

- মা প্লিজ।  আমি বিয়ে করতে চাই না।  একা থাকতে চাই।  

- ঠিক আছে।  তাহলে আমার আগের কাব্যকে চাই ।  তা না হলে খারাপ হবে।  

আরশি বেগম কেঁদেই দিলো।  কাব্য আরশি বেগমের হাত দুটো ধরে 

- মা আমাকে একটু সময় দাও।  কেঁদো না।  তোমরা যদি এমন করো আমি কই যাবো বলো।  

- আর কতো।  আমি যে তোর এই বিষন্ন চেহারা দেখতে পারছি না।  তোর বোন ঐশি কান্না করে তোর জন্য ।  তুই কেন ঠিক হচ্ছিস না।  তোর হাসিখুশি মুখ না দেখলে ওর ভালো লাগে না।  

- আচ্ছা মা বলো আমাকে কি করতে হবে?  সব করবো তোমরা কষ্ট পেয়ো না।  

- কাল থেকে তোর ভার্সিটিতে যাবি।  ভার্সিটি শেষে অফিসে যাবি।  ঐশির থেকে সব বুঝে নিবি।  

- ঠিক আছে।  এবার একটু হাসো।  

- হাসবো যখন তুই আগের মতো হাসিখুশি থাকবি।  



**

আদ্র ভদ্র লোকটাকে সাত পাঁচ বুঝিয়ে বিদায় করে দিলো।  তারপর ঐশিকে কল দিয়ে 

- কাজটা মোটে ও ভালো হয়নি।  আমার মানসম্মান সব শেষ৷ 

- তোমার আবার সম্মান কবে ছিলো। 

- মানে কি বলতে চাইছো? 

- তোমার যদি সম্মান থাকতো তাহলে ঐ কাজটা করতে না।  

- দেখো অতীত নিয়ে কথা তুলবা না।  এই জন্য মহিলা মানুষদের কিছু বলতে হয় না। 

ঐশি রেগে যেয়ে 

- কি বললে? 

- ক ক কই কিছু না তো।  

- এসো রাতে বাসায় তখন বোঝাবো।  

- এ এ তুমি রাগ করছো কেন?  আমি তো মজা করে বললাম।  

- আমি তোমার সাথে রাগ দেখাতে পারি বলো ।  তোমার জন্য একটা জিনিস আছে।  

- আচ্ছা বাবু।  


আরশি বেগম ঐশির রুমে ঢুকে 

- কাল থেকে কাব্য ভার্সিটিতে যাবে।  ভার্সিটি শেষ করে তোর অফিসে যাবে।  ওকে কাজের উপর রাখিস।  

- ঠিক আছে।  

আরশি বেগম চলে গেলো৷  আদ্র সবটা শুনে নিলো।   ঐশিকে বললো 

- আমি কি ঠিক শুনলাম? 

- হ্যা।  ঠিকি শুনেছো।  

- এবার যদি ঠিক না করতে পারো তাহলে আর কিছু করার নেই।  

- ওকে সত্যি টা জানাতে পারতেছি না।  ও মেনে নিতে পারবে না।  

- তুমি চিন্তা করো না।  আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।  


আদ্র মুহুর্তে রেগে গেলো।  ফোনটা কেটে দিয়ে বেরিয়ে পড়লো অফিস থেকে।  



**

নেহা বাসায় এসে হাজেরা বেগম  আর জামাল চৌধুরী কে সবটা বললো। তারা শুনে হাসলো।  হাজেরা বেগম বললো 

- তামান্নার আশপাশে আর জীবনে ও আসবে না।  

তামান্না বললো 

- না আসুক।  তবে আমার যেটা জানার আমি জেনে ছাড়বোই।  

- জেনে আর কি করবি।  পাবি কোথায় ছেলেটাকে।  

- একই শহরে যখন আসি যখন তখন খুঁজে পাবো।  


**

অন্ধকার রুম 

চিৎকারের শব্দ সারা রুম ভরে গেলো........ 


(waiting for next part.....)

Leave a Comment