তোমায় নিয়ে আমার গল্প 

পর্ব ৩ 

লেখা: Mehearb Kabbo 


সবাই খাওয়া বাদ দিয়ে তামান্নার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।  তামান্না সবার তাকানো দেখে অবাক হয়ে গেলো।  মুচকি হেসে খাবার নিতে লাগলো।  জামাল চৌধুরী বললেন 

মামনি তোর গালে চড়ের দাগ।  কে মেরেছে চড়?  

তামান্না মনে মনে ভাবছে, এই রে চড়ের দাগ টা রয়ে গেছে কি বলবো এখন?  সত্যি টা বলবো নাকি না।  

পাশ দিয়ে হাজেরা বেগম বললো 

- হ্যা তাই তো।  কে চড় মেরেছে তোকে?  

- একটা ছেলে 

জামাল চৌধুরী উঠে দাঁড়িয়ে 

- হোয়াইট?  আমার মেয়ের গায়ে হাত।  ছেলেটার ঠিকানা বল।  ওর কি অবস্থা করি দেখ?  

হাজেরা বেগম বললো 

- এতো উত্তেজিত হচ্ছো কেন?  

- তুমি বুঝতে পারছো না আমার একমাত্র মেয়ের গায়ে হাত তুলেছে।  আবার বলছো উত্তেজিত হচ্ছি কেন?  

হাজেরা বললো 

- তুই কি ছেলেটাকে চিনিস?  

- না।  

জামাল চৌধুরী বললো 

- অচেনা একটা ছেলে তোকে চড় মেরে গেলো আর তুই আমাকে একটা বার ও ফোন করলি না।  

- চড় মেরে কি পাড় পেয়েছে জনগণের হাতে গণধোলাই খেয়েছে ।  

জামাল চৌধুরী এবার শান্ত হয়ে বসে 

- ঠিক মতো ধোলাই দিছে তো ।  

- হ্যা বাবা। 

হাজেরা বেগম বললো 

- কি হয়েছিলো বল তো?  

তামান্না সবকিছু বললো।  হাজেরা বেগম রেগে গেলো তামান্নার কথা শুনে।  জামাল চৌধুরী বললো 

- তোর এই কাজটা করা ঠিক হয় নি।  

- তুই কি করে পারলি এটা করতে।  আগে জানতি ওর কাছে তোর ছবি কেন?  তুই তা না করে টিনার কথা মতো ছেলেটার সাথে এতো কিছু করলি।  তোর থেকে এটা আশা করিনি।  

জামাল চৌধুরী বললো 

- ছেলেটাকে বিনা অপরাধে মাইর খাওয়ালি।  

তামান্নার মনটা খারাপ হয়ে গেলো।  ছেলেটার সাথে একটু বেশি করা হয়ে গেছে।  তামান্না না খেয়ে উঠে চলে গেলো।  পাশ থেকে নেহা বললো 

- মামি এই টিনার সাথে মিশে আপু এই কাজ টা করেছে।  টিনা আপুকে আমার সুবিধার মনে হয় না।  আপুকে ভাঙ্গিয়ে খাই।  

- ব্যাপারটা দেখতে হয়।  এই নেহা তুই এরপর থেকে তামান্নার সাথে থাকবি।  

- ঠিক আছে মামি।  


**

কাব্য ঘরে বসে ভাবতেছিলো তখনি কাব্যের ফোনটা বেজে উঠলো৷ কাব্য ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখলো আদ্র ফোন করেছে।  ফোনটা রিসিভ করতেই 

- আগামিকাল আমার এখানে চলে এসো।  

- ঠিক আছে।  

আদ্র কথাটা বলে ফোনটা রেখে দিলো। কাব্য ভাবছে মেয়েটা কে?  কেন ছবি টা নিয়ে ছিঁড়ে ফেললো।  কি জন্য এমন কাজ করলো।  কাব্য ছবির টুকরো গুলো একত্রে করে সাজিয়ে 

- কেন চলে গেলে তুমি?  আমাকে সাথে নিয়ে গেলে পারতে।  এভাবে একা করে দিয়ে চলে গেলে। আমার না আর থাকতে ইচ্ছা হয় না।  তোমাকে ছাড়া আমার একটা মুহূর্ত চলে না।  

ঐশি এসে কাব্যের রুমের দরজায় নক করে ভেতরে ঢুকলো।  কাব্যের চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।  ঐশি বললো 

- শুরু করে দিলি তো আবার।  কতবার তোকে বলবো।  

কাব্য চোখের পানি মুছে নিলো।  ঐশি খাবারটা পাশে রেখে 

- কেন বুঝছিস না তুই?  নতুন করে জীবনটাকে শুরু কর ভাই।  

- আমি যে পারছি না।  ওকে যে কথা দিয়েছিলাম ওকে ছাড়া আমি আর কাউকে ভালোবাসতে পারবো না।  

- শোন এসব কথায় জীবন চলে না।  ও নেই বলে কি তুই নিজেকে শেষ করে দিবি।  

কাব্য কিছু বলে না চোখটা বন্ধ করে নিলো।  ঐশি খাবার নিয়ে 

-খেয়ে নে 

- না এখন খাবো না।  

- চুপচাপ খেয়ে নে বলছি।  ধর।  

ঐশি কাব্যকে জোর করে খাইয়ে দেয়।  


**

তামান্না নিজের রুমে এসে ভাবছে কাজটা সত্যি করা উচিত হয়নি।  আমার জানার দরকার ছিলো।  টিনার কথা শুনে কেন যে করতে গেলাম।  ছেলেটা বেশি কষ্ট পেয়েছে।  না ছেলেটার কাছে মাফ চেয়ে নিতে হবে।  আর জেনে নিবো  ওর কাছে আমার ছবি কেন?

তোমায় নিয়ে আমার  গল্প পর্ব ৩ 

ঐশী কাব্যকে খাইয়ে দিয়ে দাড়িয়ে 

- আগামিকাল সময় মতো চলে যাস।  দেরি করিস না।  

- ঠিক আছে।  

- আর এই সব বাদ দে।  নতুন করে শুরু কর।  তোর জন্য আমরা মেয়ে দেখি।  

- প্লিজ আপু।  


ঐশী রাগ দেখিয়ে চলে গেলো।  কাব্য শুয়ে পড়লো।  সারা শরীর ব্যথা।  ছবিটা বুকের উপর রেখে চোখটা বন্ধ করলো।  আরশি বেগম ঐশীকে বললো 

- খেয়েছে।  

- হ্যা।  অনেক কষ্টে।  মা তুমি কাব্যর জন্য মেয়ে দেখো।  

- ও কি রাজি হবে? 

- রাজি না হলে ও আমাদের কথা ফেলতে পারবে না। 

- ও আমাদের সব কথা শুনলে ও এই কথা শুনবে না দেখিস।  

- তোমাকে বলছি যা তাই করো।  মেয়ে দেখো বাকীটা আমি ম্যানেজ করে নিবো।  আমার বিকালে একটা মিটিং আছে।  কবে যে তোমার ছেলে বুঝবে আর আমি মুক্তিটা পাবো।  ভালো লাগে না আর এসব।  

- মাথা গরম করিস না।  কাব্য তো এমনটা ছিলো না।  

- হয়ে গেলো তো।  ওকে ঠিক করবো কি করে বুঝতেই পারছি না।  

- ঠান্ডা  মাথায় সবকিছু করতে হবে।  

ঐশি নিজের রুমে চলে গেলো।  আরশি বেগম ভাবছে কি করবে?  

***

হাজেরা বেগম জামাল চৌধুরী কে বললো 

- মেয়েটা যে কান্ড ঘটায়ছে এর পর থেকে ওকে একা কোথাও যেতে দেওয়া যাবে না।  যদি মেয়েটার ক্ষতি করে ছেলেটা।  

- আহা এতো চিন্তা করছো কেন?  তামান্নার সব কথা শোনো নি ছেলেটা ওর ছবি নিয়ে ঘুরছে।  ছিড়ে ফেলছে বলেই চড় টা মারলো রাগের মাথায়।  কিন্তু ছেলেটা কে?  আমাকে জানতেই হবে।  কেন আমার মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছে।  

- তুমি ছেলেটাকে কোথায় খুঁজে পাবে।  

- ঠিকি খুঁজে পাবো আর সত্যিটা জেনে নিবো।  

হাজেরা বেগম আর জামাল চৌধুরী কথা বলতে লাগলো। 

**

নেহা তামান্নার রুমে ঢুকে 

- আপু এতো বিভোর হয়ে কি ভাবছিস?  

- আচ্ছা তুই বল আমি কাজটা কি ভূল করছি?  

- হ্যা অবশ্যই।  তুমি না জেনে না বুঝে ছেলেটাকে গণধোলানী দেওয়া টা ঠিক হয় নি।  

- আমাকে কেন চড় মারলল?  দেখ মুখটা এখনো  লাল হয়ে আছে।  

- তোর কি দরকার ছিলো ছবি টা ছিঁড়ার।  তোর মতো তুই থাকছিস ও তো আর তোর কোনো ক্ষতি করেনি ছবি দিয়ে।  

- করেনি ঠিক আছে 

- তোমার ভূল হয়েছে এখানে।  

- হ্যা রে অনেক বড় ভূল করে ফেললাম 

তামান্না নিজের ভূল গুলো বুঝতে পেরে ভাবছে এখন।  কাব্যের সাথে দেখা হয় তাহলে মাফ চেয়ে নিবো৷ এতো টা অশান্তি ভালো লাগে না।  

পরের দিন সকালে 

কাব্য বের হয়ে পড়লো। কাব্যকে গাড়ি নিতে বললো কিন্তু কাব্য গাড়ি নিলো না।  রিকশায় উঠে গেলো।  রিকশা চলতে শুরু করলো।  

তামান্না টিনা নেহা রাস্তা দিয়ে হাটতে লাগলো।  কিছুটা দূর যেতেই কাব্যকে দেখতে পারলো।  তামান্না তাড়াতাড়ি রাস্তার ওপাশে চলে গেলো।  কাব্য টিনাকে দেখে রিকশা থেকে লাফ মারলল।  তামান্না অবাক হয়ে গেলো...... 


(Waiting for next part .....)

Leave a Comment