তোমায় নিয়ে আমার গল্প পর্ব ১

চলতি পথে তামান্নার সাথে ডাক্কা লেগে কাব্যের ওয়ালেট টা তামান্নার সামনে পড়ে যায়। তামান্না ওয়ালেট টা তুলতেই হা হয়ে যায়। এটা সে দেখছে। ওয়ালেটে থাকা ছবিটা আর কেউ না তামান্না নিজেই। নিজের ছবি অন্যের ওয়ালেটে দেখে আশ্চর্য হয়ে যায়। কাব্য তামান্নাকে সরি বলে হাত থেকে ওয়ালেট টা নিয়ে যায়। কাব্য তামান্নার দিকে সেই ভাবে তাকায়নি। তাকালে ও বা কি হতো তামান্না তো হিজাব পড়া ছিলো। তামান্না কাব্যের চলে যাওয়ার দিকে চেয়ে আছে। ওর ছবি ঐ ছেলের ওয়ালেটে কিভাবে। এই ছবি বা কোথায় পেলো। খুবই ভাবার বিষয়। এমন সময় তামান্নার বান্ধবী টিনা এসে ভাবনা টা ভেঙ্গে দিয়ে

- কি রে কি ভাবছিস?

- না কিছু না। 

- এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

- তোর জন্য অপেক্ষা করতে ছিলাম। 

- আচ্ছা চল যায়। 

- হ্যা চল। 


তামান্না আর টিন চলে গেলো। 

রাত ১২ টা

রুমের এক কোনায় বসে ফোনের দিক এক পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কাব্য। কাব্যের মনে বিষন্নতায় ভরা। চোখ বেয়ে পানি পড়ছে ফোনের স্কিনের উপর। ফোনের স্কীনে রয়েছে তামান্নার ছবি। ছবিটা স্কিনে দেখছে আর বলছে

- কেন একা করে চলে গেলা এভাবে। আমাকে ও তোমার সাথে নিয়ে যেতে। আমার একা থাকতে বড্ড কষ্ট হয়। তোমার শূণ্যতা আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। আমি তোমার শেষ সময় টুকু ও পাশে থাকতে পারিনি।

তামান্নার শুয়ে শুয়ে ফোন টিপছিলো। হঠাৎ করে ডাক্কা লাগা ছেলেটার কথা মনে যায়। ওর নিজের ছবি এতো সুন্দর করে ওয়ালেটে রাখা৷ অথচ ঐ নিজেই জানে না। চেনে না ছেলেটা কে। নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাকে প্রেমের জ্বালে ফাসাতে চাই। তামান্না চিন্তা করতে করতে টিনাকে ফোন দেয়। টিনা ফোনটা রিসিভ করে

- কি রে ঘুমাস নি এখনো?

- না রে।

- বাব্বাহ তুই এখনো জেগে আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না। তুই তো ১১ টাই ঘুমিয়ে যাস। আজ এতো রাত পর্যন্ত জেগে আছিস। 

- ঘুম আসতাছে না। 

- ঘুম আসতাছে না, নাকি অন্য ছেলের সাথে কথা বলছিস।

- ফালতু কথা রাখ তুই। আমি তোর মতো কথা বলি না ওতো। 

- হ্যা আমি তো আমার বিএফের সাথে কথা বলি শুধু। কি হয়েছে ব্যস্ত বল ও কল দিচ্ছে?

- দোস্ত আমার না একটু সন্দেহ লাগছে

- কি সন্দেহ আর কিসের?

- আজকে ঐ যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। 

- হ্যা তো

- একটা ছেলের সাথে ডাক্কা লাগছিলো। ছেলেটার ওয়ালেটে আমার ছবি৷ 

টিনা অবাক হয়ে

- তোর ছবি মানে

- হ্যা রে আমার ছবিই ছিলো। কিন্তু ছেলেটার ওয়ালেটে এতো সুন্দর করে। 

- শোন আমার মনে হয় কেউ তোকে ফাঁদে ফেলে প্রেমে জড়াবে। 

- আমি ও তাই ভাবছিলাম। এর পর দেখা হলে ছবি টেনে নিয়ে যাবো। 

- ঠিক আছে এখন রাখছি কল দিছে। 

টিনা ফোনটা কেটে দেয়। তামান্না মনে মনে বলছে

সব দেখি স্বার্থপর। বিএফ পেলে আর আমাদের চিনে না। আমার কথা গুলো তো শুনতি তার আগেই কেটে দিলো। 

কাব্য সারা রাত জেগে থাকে। ফোনের স্কিনের উপর চোখের পানি পড়ে টপটপ করে। 

শুক্রবার

কাব্য দাঁড়িয়ে আছে কবর স্থানের সামনে। চোখ দুটো স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে একটা কবরের উপর। কবর স্থানের সামনে বসে পড়ে

- একটি বার কি ফিরে আসতে পারো না? আমি আর তোমাকে ছাড়া থাকতে পারছি না। আমার প্রতিটা সময় যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। আমার এতো সহ্য করার ক্ষমতা নেই। কবে মরবো আমি। কবে পাবো একটু শান্তি। তুমি তো উপরে যেয়ে খুব শান্তিতেই আছো। 

কাব্য প্রতি শুক্রবার কবরস্থানের সামনে এসে জিয়ারত করে দোয়া করে চলে যায়। এবার টা ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জিয়ারত শেষে যখন বড় রোডে উঠে রিক্সা পেয়ে যায়। রিক্সাওয়ালা বললো

- মামা কিছু টাকা বাড়িয়ে দিয়েন। 

- আচ্ছা মামা চলেন। 

রিক্সায় করে কাব্য যাচ্ছিলো তখনি তামান্না টিনা কে দেখিয়ে দিয়ে

- ঐ দেখ ঐ ছেলে টা রিক্সায় করে যাচ্ছে। 

- ছেলেটা নিশ্চয়ই তোর আকর্ষণ কারছে। 


তামান্না কাব্যের চলে যাওয়া দেখলো কিন্তু ওদের দিকে তাকায়নি একবার ও তাই তামান্না বললো

- ছেলেটা তো একবার ও তাকায় নি। 

- এটা নতুন একটা কৌশল। তোকে নিশ্চয়ই আড় চোখে দেখছে৷ এর পর ছেলে টা কে পেয়ে নি ওর নাটক বের করে দিবো। 

- হ্যা ঠিকি বলেছিস আমার ছবি নিয়ে নাটক শুরু করছে। 

দুজনে চলে গেলো তাদের কাজে। 

কাব্য বাসায় আসতেই কাব্যের মা আরশি বেগম বললো

- কই ছিলি এতক্ষণ। 

কাব্য ভারি গলায়

- মা তুমি জানো তো। 

- বাবা রে কেন এমন করছিস৷ নতুন করে সব কিছু শুরু কর৷ তুই বল আমি তোর জন্য মেয়ে দেখি। 

- আমি পারবো না ওকে ভূলতে। ও আমার সব টা জুড়ে আছে। তুমি আর বলো না এসব কথা। 


কাব্য ভেতরে চলে গেলো। কাব্যের বাবা আশরাফ এসে বললো

- কাব্য ফিরেছে। 

- হ্যা। কিন্তু ছেলেটা দিন দিন তো এভাবে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে। 

- কি করবো বলো? ছেলেটাকে তো কম করে বুঝালাম না। তবু ও শুনলো না। 

- ওকে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করো। 

- ও কখনোই করবে না। 

আরশি বেগম কান্না করে দিয়ে

- আমার ছেলেটা কি দিন দিন এভাবে শেষ হয়ে যাবে। ও আগের মতো নেই কেন বুঝছো না। 

- ডাক্তার কি বলছে শুনো নি। ওকে জানো জোর না করি। আমার ছেলেকে হারাতে চাই না। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।

রাত ১০ টা

রাস্তার ল্যাম্প পোস্টের নিচে বসে ওয়ালেট হাতে নিয়ে তামান্নার ছবি টার দিকে এক পলক করে চেয়ে আছে কাব্য। পলক জেনো পড়ছে না। পাশে এসে কাব্যের বন্ধু রাজ এসে বসলো। রাজ কাব্যের সেই বাল্য কালের বন্ধু। রাজ জানে সব কিছু৷ রাজ কাব্যের কাঁধে হাত দিয়ে বললো

-বাসায় যাবি না৷

- হ্যা রে যাবো। 

- রাত কয় টা বাজে দেখছিস। 

- এখন আর দেখে কি হবে বল? যে মানুষটা শাসন করার জন্য ছিলো সেই মানুষ টা আজ আর নেই। তোদের সাথে এখানে বসে আড্ডা দিতাম৷ ৯ টা বাজলে আমাকে ফোন দিয়ে বলতো

- এই তুমি কোথায়। অনেক আড্ডা হয়েছে এখন সোজা বাড়িতে এসে আমাকে কল দিবা। 

আমি তোদের কে রেখে চলে যেতাম। আজ আমি এখানে বসা কিন্তু সেই মানুষটা নেই। সময়ের কতো ব্যবধান। 

কাব্য রাজকে ধরে কান্না করে দিয়ে

- ওকে ছাড়া আমার একটু ও চলবে না। আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারছি না। 

রাজ কি বলে কাব্যকে শান্তনা দিবে তার ভাষায় নেই। কাব্যের পাগলামি বেড়ে চলেছে। 

একদিন

তামান্না আর কাব্য দুজনে মুখোমুখি। তামান্না হিজাব বাধা। কাব্য তামান্না কে পাশ কাটিয়ে চলে যাবে তামান্না যেতে দেয় না। টিনা সামনে এসে

- এই তোর মানি ব্যাগে কি আছে? বের কর মানি ব্যাগ৷ 

কাব্য অবাক হয়ে

- আমার মানি ব্যাগে কিছু নেই। 

- নেই কিছু যখন বের কর। নাই পুলিশকে ফোন দিবো। 


কাব্য কথা না বাড়িয়ে মানিব্যাগ টা বের করে দিলো। টিনা মানিব্যাগ থেকে তামান্নার ছবি টা বের করে

- এই ছবি কার। 

কাব্য মাথা নিচু করে

- আমার বউয়ের। 

তামান্না আর টিনা হা হয়ে গেলো। তামান্না রেগে যেয়ে

- এটা তোর বউয়ের। নাকি লাইন মারার চিন্তা করছিস। 

- কি বলছেন কি আপনারা?

টিনা বললো

- তোকে কে পাঠিয়েছে সত্যি করে বল?

- আজব তো আমাকে কে পাঠাবে? কারা আপনারা। 


তামান্না কিছু না বলে নিজের ছবি টা ছিঁড়ে ফেলে। কাব্য এটা দেখে রেগে যায় খুব৷ রাগ কন্ট্রোল না করতে পেরে তামান্নার গালে কষে চড় মারে...........


( Waiting for next part...........) 


তোমায় নিয়ে আমার গল্প

পর্ব ০১

কলমে: Meherab Kabbo 


তোমায় নিয়ে আমার গল্প পর্ব ১

Leave a Comment