তোমাকে নিয়ে আমার গল্প 

পর্ব ৫ 

লেখা: Meherab Kabbo 


অন্ধকার রুমে শুধুই আত্মঃ নাদ।  চিৎকার করা ছেলেটা বলতে লাগলো 

- আমাকে মেরে ফেল।  কেন আমাকে এতো যন্ত্রণা দিচ্ছিস।  আমাকে মেরে ফেলে শান্তি দে।  

উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো একজন আর বললো 

- তোকে এতো সহজে মারবো না।  তোকে এতো সহজে মারলে আমি শান্তি পাবো না।  কেউই শান্তি পাবে না।  তোকে অনেক কষ্টে ধরেছি।  তিলে তিলে তোকে মারবো।  প্রতিটা মুহুর্তে মৃত্যুর যন্ত্রণা পাবি।  বাকী রইলো আরো পাঁচ জন।  দাদা ভাই।  বলবি নাকি।  

- আমার জীবন চলে গেলে ও বলবো না।  


প্লাস দিয়ে ছেলেটার হাতের আঙ্গুলের উপর দিয়ে চাপ দিলো।  ছেলেটা চিৎকার দিয়ে উঠলো জোরে।  বন্ধ ঘর।  আওয়াজ বাহিরে যাওয়ার মতো না।  

- বলবি নাকি তোকে আরো যন্ত্রণা দিয়ে মারবো।  

- বলছি বলছি।  আমাকে ছেড়ে দে।  আমি আর কখনো এমন করবো না।  

- কোথায় হাত দিয়েছিস তুই নিজে ও জানিস না।  


কথাটা বলে লোকটা বেরিয়ে গেলো।  



কাব্য রুমে বসে ফোনের স্কিনে তামান্নার ছবি দেখতে ছিলো।  তখনি ঐশি রুমে ঢুকে 

- তোকে যাওয়ার পথে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিবো।  

- লাগবে না আমি একাই যেতে পারবো৷  

- তাহলে আমি ড্রাইভার কে বলে দিবো তোকে নামিয়ে দিবে৷  

- আমি গাড়িতে যাবো না।  রিকশা করে করেই যাবো।  

- সবাই দেখলে কি বলবে? 

- কি বলবে?  আমার কোনো দরকার নেই।  রিকশায় চলে যাবো।  

- তুই যা ভালো বুঝিস।  

ঐশি রুম থেকে বের হয়ে গেলো।  


**

তামান্না বিছানায় শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে।  নেহা এসে পাশে শুয়ে 

- আচ্ছা আপু তোর কাউকে ভালো লাগে না।  

- না রে।   কেন? 

- না মানে।  তুই কাউকে পছন্দ করিস কি না জানতে ইচ্ছা হলাম।  

- আমি কাউকে পছন্দ করলে সবার আগে তুই জানবি।  আর তুই এটা বলছিস।  

- আসলে আপু একটা সত্যি কথা বলবো।  

- হ্যা বল 

- আমার না একজন কে খুব ভালো লাগে তার কেয়ার গুলো আমার অনেক ভালো লাগে।  মনে ধরে গেছে।  

তামান্না উঠে বসে অবাক হয়ে 

- কি বলিস?  কে  রে। 

- কাউকে বলবি না তো।  

- তোর কি মনে হয় আমি বলে দিবো।  

নেহা তামান্নার হাত ধরে 

- না তবুও।  প্লিজ কাউকে বলিস না।  তাহলে আমি কাউকে মুখ দেখাতে পারবো না।  

- আচ্ছা বলবো না।  এখন বল।  

- কোচিং এর রাশেদ ভাইয়া আছে না।  

- হ্যা।  

- সে।  

তামান্না হা হয়ে 

- তুই বুঝলি কি করে তোকে সে পছন্দ করে। 

- আমি সবই বুঝি।  আমাকে কোনো ছেলের সাথে কথা বলতে দেয় না।  একটু ঘুরতে যাবো তা ও যেতে দেয় না৷। বকা দেয় বেশি বেশি।  সবাই তো রাশেদ ভাইয়াকে নিয়ে খেপায়।  সবার খেপানি নিয়ে আমার অবুঝ মনটা তারে দিয়ে দিছি।  


তামান্না নেহার কথা শুনে হাসতে লাগলো।  নেহা তামান্না কে চিমটি কেটে 

- হাসছিস কেন?  

- কি নাম বললি? 

- রাশেদ ভাইয়া 

তামান্না হেসে দিয়ে 

- পছন্দের মানুষকে ভাইয়া বানালে বর কাকে বানাবি।  


নেহা লজ্জা পেয়ে গেলো।  তামান্না আর নেহা দুষ্টুমি করতে লাগলো।  



পরেরদিন সকালে 


ভার্সিটি যাওয়ার উদ্দেশ্য  রওনা হলো কাব্য। আরশি বেগম বেলকনি দিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইলো।  কাব্য যতক্ষণ না চোখের আড়াল হলো ততোক্ষণই তাকিয়ে ছিলো।  কাব্য কিছুদূর যেয়ে রিকশা পেলো।  রিকশাওয়ালাকে দেখে 

- চাচা কেমন আছেন? 

রিকশাওয়ালা চাচা কাব্য দেখে হাসি ফুটে উঠলো মুখে।  চাচা বললো 

- বাবা তুমি এতোদিন কোথায় ছিলো।  তোমাকে তো পাই না।  রোজ তোমার জন্য অপেক্ষা করি।  কিন্তু তোমার দেখা পাই না।  ঠিক আছো তুমি।  

- হ্যা চাচা ঠিক আছি।  একটা সমস্যার কারণে আর আশা হয়নি এদিকে।  এখন থেকে রেগুলার আসবো।  বাসার সবাই ভালো আছে।  

- হ বাবা ভালোই আছে।  পোলাটা মাঝে গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গেছে।  

- ইশ।  কিভাবে হলো। 

- রিকশা চালাচ্ছিলো।  পিছন থেকে বাস এসে চাপা দিয়ে চলে গেছে।  

- বাস ধরতে পারেন নি।  

- না বাবা।  কেউ বলতে ও পারে না।  তোমার চাচি ভেঙ্গে পড়ছে।  কান্না করে পোলাটার কথা ভেবে।  


কাব্য কি বলে শান্তনা দিবে তার ভাষার বাহিরে।  কাব্য চুপচাপ চাচার কষ্টের কথা শুনতে লাগলো।  রিক্সা এসে ভার্সিটির গেইট এ এসে থামে।  কাব্য রিকশা থেকে নেমে টাকা দিয়ে 

- ঠিক টাইমে চলে এসেন চাচা।  

- ঠিক আছে বাবা।  


কাব্য গেইট দিয়ে ভার্সিটিতে ঢুকতেই তালহা আবিদ আদিবা জান্নাত মেহেরুন সবাই কাব্যের  সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো ।  আবিদ তো কাব্যকে জরিয়ে ধরেছে।

তোমায় নিয়ে আমার গল্প পর্ব ৫ 

মেহেরুন বললো 

- আমাদের কথা তবে তোর মনে পড়লো।  

আবিদ বললো 

- আমাদের থেকে ও কখনো দূরে থাকতে পারবে না। 

আদিবা বললো 

- ও তো বেশ আছে।  আমরা আছি না গেছি কখনো মনে পড়ছে কি না? 

কাব্য ওদের কথা শুনলো কিন্তু কোনো কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে।  কাব্য চোখটা বন্ধ করে নেয়।  মুহুর্তেই চোখেটা ভিজে যায় ।  সবাই অবাক হয়ে গেলো।  জান্নাত হা হয়ে বললো 

- কি হয়েছে তোর?  

কাব্য চোখের পানি মুছে

-  চোখে কি জেনো গেলো।  

তালহা কাব্যের কাঁধে হাত দিয়ে 

- কষ্ট পাস না।  সব ঠিক হয়ে যাবে।  

- আর কিছু ঠিক হবার নেই রে।  


কাব্য মনটা খারাপ করে ফেললো।  মেহেরুন বললো 

- দেখলি তো এতোদিন পর কাব্য আসলো তা ও ওর মনটা খারাপ করে দিলাম।  এতোদিন আমাদের থেকে দূরে ছিলো ভালই ছিলো।  


কাব্য হেসে দিয়ে 

- আরে না।  তোদের ছাড়া আর কখনো থাকবো না।  তোদের সাথেই সবসময় থাকবো।  

আদিবা মুখ ভেংচি কেটে 

- কেমন ছিলি দেখলাম তো৷  গালফ্রেন্ড পেয়ে তো ভূলেই গেছিলি।  

- আর দূরে থাকবো না।  তোদের সাথেই থাকবো।  

- মনে থাকবে তো।  

- হ্যা।  

মেহেরুন বললো 

- আজ আর ক্লাস করবো না।  চল জাম তলায় যেয়ে বসি।  আড্ডা দিবো। কাব্যকে অনেক দিন পর পেলাম।  


সবাই সম্মতি দিলো।  চলে গেলো জাম গাছ তলায়।  সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলো।  কাব্যকে খুশি রাখার জন্য কমেডি গল্প সব কিছুই করতেছিলো।  হঠাৎ করে কাব্য ওদের কাছ থেকে উঠে দৌড়ে চলে গেলো।  সবাই হা হয়ে কাব্যের দিকে তাকিয়ে আছে।  কেন এভাবে গেলো কেউ কিছু বুঝতে পারলো না।  



সন্ধ্যার পর 

বারের ভেতর চার পাঁচটা মেয়ের মাঝখানে বসে আছে বয়স্ক একটা লোক।  চুলে পাক ধরেছে। মেয়েদের সাথে মদের গ্লাস তাদের গ্লাসের সাথে লাগিয়ে এক এক বার চুমুক দিচ্ছে ।  কেউ কেউ খাইয়ে ও দিচ্ছে।  বয়স্ক লোকটা মেয়ে গুলোর গালে কিস ও করছে।  হঠাৎ করে বয়স্ক লোকটার হাত থেকে মদের গ্লাসটা পড়ে গেলো।  বয়স্ক লোকটার কানে ভেসে আসছে 

- দাদাই,  দাদাই, ও দাদাই আমি এসে গেছি 


( Waiting for next part.......)

Leave a Comment