তোমায় নিয়ে আমার গল্প

পর্ব ০২

কলমে: Meherab Kabbo

তামান্না কিছু না বলে নিজের ছবি টা ছিঁড়ে ফেলে।  কাব্য এটা দেখে রেগে যায় খুব৷  রাগ কন্ট্রোল না করতে পেরে তামান্নার গালে কষে চড় মারে।  তামান্না গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে পড়ে।  আশ পাশের মানুষ ও তাকিয়ে পড়ে।  টিনা কাব্যের গালে চড় মেরে

- তোর এতো বড় সাহস আমার বান্ধবীর গালে চড় মারিস। 

এর ভেতর দু একজন ছেলে এসে

- কি হয়েছে আপু?

- আর বলেন না এই লম্পট আমার বান্ধবীর গায়ে হাত তুলছে। 

একটা ছেলে কাব্যের কলার ধরে

- মেয়ে মানুষ দেখলে লুচ্চামি শুরু হয়ে যায়। 

- আপনারা ভূল ভাবছেন।  আমি কিছু করিনি। 

- মেয়েদের গায়ে হাত দিয়ে বলছিস কিছু করিস নি। 

কাব্যকে মারা শুরু করলো।  আরো কিছু লোক জড়ো হলো।  টিনা বললো

- ওকে পুলিশে দেওয়া উচিত ।   আমার বান্ধবীর গায়ে হাত তোলা। 

একজন পুলিশকে ফোন দিলো।  কাব্যকে উল্টা পাল্টা চড় ঘুসি লাঠি মারতে থাকলো।  কিছু ক্ষণের ভেতর পুলিশ চলে আসলো।  সবাইকে সরিয়ে দিয়ে ফাঁকা করে দিলো।  গোল করে মানুষের ভিড় জমে গেছে।  পুলিশ দাঁড়ানো ।  কাব্য কোনো রকম উঠে হাটু মুড়ে ছিঁড়া ছবি গুলো গুছানোর চেষ্টা করলো।  সবাই তাকিয়ে দেখছে। 

একজন বললো

- স্যার একে ধরে নিয়ে যান।  রাস্তা ঘাটে মেয়েদের উত্যক্ত করে।  ঐ মেয়েটার গায়ে অশালীন হাত দিয়েছে। 

টিনা এগিয়ে এসে

- স্যার আমরা যাচ্ছিলাম তখনি ও আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বখাটে পানা শুরু করে।  এক পর্যায় আমার বন্ধবীর গায়ে দেয়। 

পুলিশ সবার বক্তব্য শুনে কাব্যের কলার ধরে

- চল এবার মামা শুশুর বাড়ির আদর খাবি৷  এতোক্ষণ জনগনের হাতে খেয়েছিস। 

কাব্য কিছু বলতে পারছে না।  হাতে ছবি গুলোর ছিড়া অংশ ধরে আছে এখনো।  তামান্না কাব্যের এই পাগলামি দেখে বেশ অবাক।  পুলিশ বললো

- আপনারা দুজন আমাদের সাথে থানায় চলেন।  কেস ফাইল করতে হবে। 

কাব্যকে গাড়িতে উঠাতে যাবে তখনি একটা গাড়ি এসে থামলো।  গাড়ি থেকে চশমা পড়া একটা মেয়ে নামে।  মেয়েটা পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে

- ওর এই অবস্থা কি করে হলো?

- ও মেয়েদের উত্যক্ত করছে।  তাই গণ ধোলানি খেয়েছে। 

মেয়েটা কাব্যের দিকে তাকিয়ে

- তুই এই কাজ করেছিস। 

কাব্য কাপতে কাপতে

- ন ন না। 

মেয়েটা পুলিশের দিকে তাকিয়ে

- ওকে ছেড়ে দেন৷  আর সেই মেয়েটা কই।


তামান্না সামনে আসলো।  মেয়েটা তামান্নার হাত ধরে

- দেখো বোন তোমাদের এখানে কি হয়েছে আমি জানি না।  কাব্য এমন ছেলে নয়।  ও  একটু আছে।  যদি কোনো ভূল করে থাকে তাহলে তার জন্য দুঃখিত৷  ওকে পুলিশে দিয়ো না৷ 

পাশ দিয়ে টিনা বললো

- অসুস্থ যখন তাহলে রাস্তায় আসতে দিছেন কেন?  ঘরে ছিকল বেধে রেখে দিলে তো হয়।  বাইরে এসে এমন নোংরামি করবে না। 

মেয়েটা তামান্নার দিকে তাকিয়ে

- একটু ভেবে দেখো।  কাব্য এতোটা খারাপ ছেলে না যে মেয়েদের ডিস্টার্ব করবে৷ 

তামান্না কিছু একটা ভেবে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে

- ওকে ছেড়ে দেন।  আর কেস ফাইল করার দরকার নেই৷  যা শাস্তি পাওয়া পেয়ে গেছে।  পরের বার আর এসব করার সাহস পাবে না। 

- ঠিক আছে। 

পুলিশ ছেড়ে দিলো কাব্যকে আর মেয়েটাকে বললো

- পরের বার যদি এমন কাজ করে তাহলে আর ছাড়বো না সোজা জেলে ভরে দিবো।  পুলিশ চলে গেলো।  জনগন ও কমে গেলো।  মেয়েটা কাব্যের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে পড়লো।  কাব্য মাথা নিচু করে নিলো।  মেয়েটা তামান্না কে বললো

- ধন্যবাদ। 

মেয়েটা কাব্যের হাতে থাকা ছবি গুলো ফেলে দিলো।  কাব্য আবার ও বসে পড়ে ছবি কুড়িয়ে নিলো।  মেয়েটা কাব্যকে বললো

- তোকে কত বার বলেছি আমি বল যে মারা গেছে সে কখনো ফিরে আসবে না।  কেন এই ছবি টা নিয়ে বার বার এমন করছিস।  ফেলে দে। 

তামান্না মেয়েটার কথা শুনে জেনো আকাশ থেকে পড়লো।  কাব্য হাতে ছবিগুলো তুলে নিলো।  মেয়েটা কাব্যকে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে গেলো।  তামান্না ঠাঁই দাড়িয়ে আছে।  কি বলে গেলো মেয়েটা?  আমি তো জীবিত তাহলে মরলাম কি করে?  টিনা বললো

- দাঁড়িয়ে থাকবি না যাবি বাসায়

- ওনি কি বলে গেলো শুনেছিস।   আমি নাকি মরে গেছি। 

- আরে ওসব কথা মাথায় নিস না।  এটা নতুন কোনো প্ল্যান।  তোকে আকৃষ্ট করার চিন্তা।  তোরা বড় লোক যদি তোকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। 

- সবকিছু আমার কাছে কেমন অদ্ভুত লাগছে৷ 

- বাসায় চল।  এসব চিন্তা বাদ দে। 

তামান্না টিনার সাথে বাসার দিকে রওনা হলো। 

( সরি মেয়েটার পরিচয় দেওয়া হলো না।  মেয়েটা হচ্ছে কাব্যের বড় বোন ঐশি) 

ঐশি কাব্যকে নিয়ে বাসায় আসলো।  আরশি বেগম এগিয়ে যেয়ে কাব্যকে দেখে

- কি হয়েছে কাব্যের?

- গণ ধোলাই খেয়েছে জনগণের কাছে৷  ওর জন্য আমাদের আর মান সম্মান থাকবে না।

আরশি বেগম ধমক দিয়ে

- তুই চুপ থাক। 

ঐশি রাগ দেখিয়ে চলে গেলো।  আরশি বেগম কাব্যকে নিয়ে সোফায় বসিয়ে রুমের ভেতর থেকে একটা বক্স নিয়ে এসে কাব্যের কাটা অংশে মলম লাগিয়ে দিচ্ছে আর বললো

- কি হয়েছে বল তো?

কাব্য আরশি বেগম কে সবকিছু বললো।  আরশি বেগম অবাক হয়ে গেলো।  আরশি বেগম বললো

- তুই আমাকে একটা ফোন দিবি না। 

- আমার মাথায় তখন কাজ করছিলো না৷ ওরা ছবিটা ছিঁড়ে ফেলছে। 

- এর পর ওদের দেখলে দূরে থাকবি।  মনে থাকে জানো৷ 

- ঠিক আছে। 

ঐশি ওয়াশ রুম থেকে বের হতেই দেখলো ফোন বাজছে।  ঐশি যেয়ে ফোনটা রিসিভ করার আগেই ফোনটা কেটে গেলো৷  ২০ + কল দিয়েছে।  আবার ও কল করলো ঐশি ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ঝাড়ি গলায়

- কই থাকো হ্যা৷  একটা ফোন ধরতে এতোক্ষণ লাগে।  কই ছিলা।

- আমি ওয়াশ রুমে গেছিলাম।

- দরকারি সময় তো তোমার সবকিছু শুরু হয়ে যায়। 

- সরি। 

- কিসের সরি।  কাব্যের উপর থেকে এতো বড় ঝড় গেলো আমাকে জানালে না কেন?

- অল্পতে যখন সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে তখন আর জানাই নি। 

- যদি বড় কিছু হতো।  মেয়ে দুটোকে চিনো তুমি। 

- না।  কেন?

- ওদের ঠিকানা। 

- না। 

- তা করছো তা কি?  ওদের এতো বড় সাহস কাব্যের সাথে এমন জঘন্য কাজ করলো। 

- তুমি কিভাবে জানল। 

- তোমাকে না পেয়ে মা কে কল করছিলাম।  মা সবটা বলছে কাব্যের থেকে শুনে।  তুমি কাব্যের কাছে না শুনে অমনি ওদের সাথে আপোস করো।  আমার নাম বলোনি কেন পুলিশ কে?

- তুমি তো জানো আমরা দুই ভাই বোন ঝামেলা পছন্দ করি না। 

- তোমার মতো বোকাকে নিয়ে এই জন্য সংসার করি। 

ঐশি রেগে যেয়ে

- কি বললে?

ফোনটা কেটে দিলো।  ঐশি রাগে গজ গজ করতে করতে নিচে নেমে

- মা আদ্র কে সবকিছু জানানোর কি দরকার কি ছিলো?

- তোকে না পেয়ে আমাকে কল করছিলো।  ও জিঙ্গেস করলো তাই বলে দিয়েছি। 

- তোমার জন্য আমার বেশি কথা শুনতে হলো। 

- তোর তো উচিত ছিলো আদ্রর কথা বলা।  বলিস নি। 

- কেন বলবো হ্যা?  আমি যেখানে আপোস করতে পারছি সেখানে কেন ওকে টানবো। 

- তোর ভাইয়ের তো দোষ ছিলো না। 

- জানি দোষ ছিলো না। ও পাবলিক প্লেসে চড় মেরেছে দোষটা ওখানেই হয়েছে ও একটা ছেলে মানুষ।  মেয়ে মানুষকে চড় মারছে বলেই তো কিছু মানুষ ভাব নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসছে।  মেয়ে মানুষ চড় মারলে আর কিছু হতো না। 

- এটাই তো সমস্যা।  কারো দোষ গুন না দেখে তার প্রতি অন্যায় বিচার করা। 

- তোমার জামাইকে মেয়ে দু জনের ব্যাপারে কিছু বলো না।

- কেন?

- কেনো জানো না ওর নাড়ি বের করে ছাড়বে। কাব্যকে আদ্র কম ভালোবাসে না।  শুনেছে দেখে রেগে আছে অনেক। 

তামান্না বাসায় যেয়ে হিজাব খুলে নিচে আসলো খাওয়ার জন্য।  চেয়ারে বসতেই সবাই তামান্নার দিকে তাকিয়ে আছে।  তামান্না কিছু বুঝতে পারছে না............


( waiting for next part.........)   

Leave a Comment